বিগত কয়েকদিন ধরেই খবরের কাগজে দেখে আসতেছি অক্টোবরের এক তারিখে নীল চাঁদ দেখা যাবে।যা বিরল

"ব্লু মুন"নামে খবরের শিরোনাম হচ্ছে।এদিকে আবার শুরু হয়েছে শরৎ।চারিধারে না হলেও নির্দিষ্ট কিছু

এলাকাতে কাশবনের সৃষ্টি হয়েছে।উপশহর তার মধ্যে অন্যতম।কাশবনে চাঁদ দেখার শখটা হঠাৎ করেই

জেগেছিল।আজ তা পূর্ণ হতে চলেছে।

এখন বাজে সন্ধ্যে সাড়ে পাঁচটা।আমি উপশহরে বসে আছি নিরুর অপেক্ষায় একেবারে ঐধারে সিঁড়ির উপরে।

হাতে একগুচ্ছ সাদা কাশফুল ।আমি তাকিয়ে দেখছি ময়নাকাটা নদীর অপরুপ মহিমা।কত‌ই না স্মৃতি জড়িয়ে

আছে এই নদীর সাথে।ছোটবেলা বর্ষা কালে ভেলা বানিয়ে নদীতে ভেসেছি।নদীতে গোসল করতাম দল বেঁধে ।

এক ঘন্টা দুঘন্টা চলে
যেত পানি থেকে উঠার খবর নেই!শেষে মা আসতো বাঁশের কঞ্চি হাতে ।দু চার ঘা পিঠে

পরার পরে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরা।যাইহোক, অন্য প্রসঙ্গ টানতেছি।এই গোধূলি সন্ধ্যা বেলায় কতো মানুষ‌ই

না এসেছে উপশহরে।বেশির ভাগ‌ই সম্ভাবত প্রেমিক-প্রেমিকা।প্রেমিকারা বেশির ভাগ‌ই নীল শাড়ি পরিধান

করেছে।এই গোধূলি সন্ধ্যা বেলা নদীর পাড়ের বাতাসে শাড়ির আঁচল উড়িয়ে সবাই কাশফুলের সাথে ছবি তুলতে

ব্যস্ত।ঐতো!একটা মেয়ে প্রায় কেদেই যাচ্ছে!তার প্রেমিক কোনো ভাবেই প্রেমিকার মনের মতো ছবি তুলতে

পারছে না।আবার ঐ দিকে কংক্রিটের বেঞ্চে বসে বাদাম খাচ্ছে দুজন।কি ভাব তাদের মধ্যে।মনে হচ্ছে

শতজনমের পরিচয়ে সিক্ত তারা।পাশেই কিছু দুষ্টু ছেলের দল মেতেছে অট্ট হাসিতে।প্রেমিক-প্রেমিকাদের নিয়ে

তারা অশ্লীল কথা বলতেছে।আমি এগিয়ে গেলাম তাদের দিকে।

-এই যে ব্রাদার,শুনছেন?

কালো চশমা চোখে দেওয়া মোটাসোটা ব্যক্তিটা বাইকে বসা অবস্থায় ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে

তাকিয়ে বললোঃ কি বে?আমি বয়রা নাকি শুনতে পারবো না।বল কি বলবি?

আমি বললাম ব্রাদার, আপনাদের নিকট থেকে এরকম অশ্লীল কথা প্রত্যাশা করছি না।

প্রেমিক-প্রমিকারা প্রেম করছে তাদের করতে দিন।ওদের নিয়ে বাজে কথা বলতেছেন কেন?

আরেকজন সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে আমার সামনে এসে বললো‌ এই তোর সমস্যা কি?

আমরা কি করমু না করমু তাতে তোর বাপের কি?আমি বললাম মেয়েগুলো আপনার বোনের

তাদের সম্মান করুন।পাশেই থাকা আরেকজন ব্যঙ্গ সুরে উত্তর দিলো সবাই যদি বোন হয়

তবে বিয়া করমু কারে।পুরো দলে একটা হাসির দামামা বেঁজে উঠলো।আমি বললাম এই

ভালো হবে না এই বলে দিচ্ছি।হঠাৎ করে একজন এসে(সম্ভাবত ওস্তাদ)প্রচণ্ড ক্ষিপ্র গতিতে

আমার দুঠোটের উপরে একটা ঘুসি মেরে বসলো।কিছু না বুঝে ওঠার আগেই আমি মাটিতে

গেলাম।ওস্তাদটা চিৎকার করে বলছে, এই তুই কি করবি?হ্যাঁ, আমারে চিনস আমি কে?সাঙ্গ

বলছে ওস্তাদ, ঝামেলা ক‌ইরেন না সবার হাতে মোবাইল আছে কেউ ছবি তুলবে।ইতোমধ্যে

ভীর জমে গেছে।কিছু না বলেই হঠাৎ ছেলেগুলো প্রকান্ড বাইকের আওয়াজ তুলে চলে যেতে

লাগলো।
আমি পরিধানে আছি একটা সাদা পাঞ্জাবি।ইটের রাস্তায় পড়ে যাবার কারণে পাঞ্জাবি এখন

ময়লায় জর্জরিত।ভীড় ছেড়ে আমি চলে যাচ্ছি ঐ দিকের বালুর মাঠে ।দিকটা বেশ শান্ত কেউ

নেই।এতোক্ষণ লক্ষ্য করি নি।ওস্তাদ ছেলেটার আঘাতে নিচের ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে।

সাদা পাঞ্জাবিতেও দু এক ফোঁটা পড়েছে।তবে এই সন্ধ্যা বেলা গোধূলির কারণে পুরো উপশহর

লাল দেখাচ্ছে।যার ফলে পাঞ্জাবিতে পড়ে থাকা দুফোটা রক্ত কালো দেখাচ্ছে।হঠাৎ আমার

হাত কাঁপছে ।হাতে থাকা কাশফুলগুলো বালুর উপরে পড়ে গিয়েছে।আমার মাথা ঘুরছে।

হঠাৎ মাথা ঘুরতেছে কেন বুঝতে পারছি না ।ওস্তাদ বেটার ঘুসির কারণে নয়তো?সূর্যটা অস্ত

গিয়েছে ইতমধ্যে গোধূলির কারণে পুরো উপশহর এখনো লাল হয়ে আছে।আমি খোলা

রাখতে পারছি না।চোখ বন্ধ হয়ে আসছে আমার।আমি লুটিয়ে পরলাম বালুর মাঝে।









-শুভ্র, এই শুভ্র?শুভ্র?আমি কু কু শব্দ মতন করে চোখ খুলতেই দেখি নিরু।নিরু আর আমার

আজকে কাশবনে জ্যোৎস্না দেখার কথা।নিরুর আসার কথা ছিল রাত দশটায় তখন চাঁদটা

থাকবে দক্ষিণ দিকে মুখ বরাবর।আবার নিরু বলছে তোমার কি হয়েছে?বালুতে শুয়ে আছ

কেন?কি হয়েছে এই তোমার কি হয়েছে?আমি এখনো কোনো কথা বলছি না কিছুক্ষণ আগে

হয়েছিল তা মনে করার চেষ্টা করছি।ঠোঁটেতে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।কিছুটা ফুলেও গেছে।

লাগাতার বলে যাচ্ছে কি হয়েছে তোমার?কথা বলছো না কেন?ইতিমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

চাঁদ জ্যোৎস্না দিতে শুরু করেছে আরো আগে থেকে।পুরো উপশহর যেনো চাঁদের আলোয়

জ্বলছে ।কাশফুলগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।মাথা একটা ঝাঁকুনি দিয়ে নিরুর প্রশ্নের জবাব

দিলাম।নিরু আসলে হয়েছে কি,সন্ধ্যা বেলা..

-হ্যাঁ, বলো।সন্ধ্যা বেলা কি হয়েছে?
সন্ধ্যা বেলা আমি এখানে এসেছিলাম তারপর কতগুলো পকেটমার আমার মাথার পিছনে শক্ত

দিয়ে আঘাত করে আমার সবকিছু নিয়ে গেছে।নিরু প্রচণ্ড চিৎকার করে বললো,তুমি মিথ্যে

কেন?আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম মিথ্যা বলছি আমি?বুঝলে কিভাবে?

নিরু বললো তোমার হাত ঘড়িটা এখন‌ও তোমার হাতেই আছে।এটা আমি তোমাকে উপহার

দিয়েছিলাম।তোমার পকেটে তো বোধহয় দুটাকাও নেই যে ছিনতাই কারীরা নিবে।তোমার

আছে একমাত্র ঘড়িটা তাও নেয় নি।আর তোমার মাথায় আঘাত করেছে বলছিলে কিন্তু

তোমার ঠোঁটে রক্ত কেন?আমার সাথে মিথ্যে কথা বলতে নিষেধ করেছি না একবার।আবার

কেন মিথ্যে বললে?নিরুটা আমার থেকে বেশ কিছুটা দূরে সরে গেল।আমি বালুর উপর বসা

অবস্থা থেকে উঠে দাড়ালাম।জুতাটা কোথায় গেল!ধুলাবালিতে মাখামাখি অবস্থা।নিরু আমার

থেকে বেশ কিছুটা সামনে দাঁড়িয়ে।আমি নিরুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।পাশে পড়ে থাকা

কাশফুলগুলো হাতে তুলে নিলাম।হেলতে দুলতে নিরুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

-নিরু,ফুলগুলো শুধু তোমার জন্য এই না।নিরু মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নিরু রাগান্বিত স্বরে

উত্তর দিলো চাইনা তোমার ফুল।শত ফুল পাশেই ফুটে আছে চাইলে আমি নিজেই ছিড়ে নিতে

পারি।এমনিতেই আমার মাথা কাজ করতেছে না।তার উপরে নিরু রেগে আছে।অবস্থা পুরো

বেকায়দায় চলে গেছে। আমি হাঁটু ভাজ করে আসাম দিয়ে বালুর উপরে বসে পড়লাম।হাতে কাশফুলগুলো ধরে দুহাত

উচিয়ে নিরুকে ডাকছি।
-নিরু,এদিকে তাকাও।
নিরুর উত্তর মাথা নাড়িয়ে না..
-এদিকে তাকাও তো দেখ,তোমার পিছনে বসে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষটা ।যে কিনা তার

প্রেমিকার রাগ ভাঙাতে ব্যস্ত সাদা কাশফুল দিয়ে।কতো আদুরে গলায় নিরু নিরু বলে ডাকছে

তবুও নিরুর কোনো সাড়া নেই।পৃথিবীর সুন্দর তম মুহূর্ত নীল চাঁদ দেখা যাবে আর মাত্র

কিছুক্ষণ পরেই।পৃথিবী ভরে উঠবে ভালোবাসাতে।আর একজন অসহায় প্রেমিক সেই

ভালোবাসাই হাতে নিয়ে বসে আছে তার প্রিয়র জন্য।নিরু এবার আমার দিকে ঘুরে তাকাল।

আমি বাড়িয়ে দিচ্ছি কাশফুল নিরুর দিকে নিরুও দুহাত বাড়িয়ে গ্রহণ করছে সাদা-শুভ্র

কাশফুল।আর আমি বলছি-



Shovon sent Today at 1:19 Aপ্রেমিকার রাগ ভাঙাতে ব্যস্ত সাদা কাশফুল দিয়ে।কতো আদুরে গলায় নিরু নিরু বলে ডাকছে তবুও নিরুর কোনো সাড়া নেই।পৃথিবীর সুন্দর তম মুহূর্ত নীল চাঁদ দেখা যাবে আর মাত্র কিছুক্ষণ পরেই।পৃথিবী ভরে উঠবে ভালোবাসাতে।আর একজন অসহায় প্রেমিক সেই ভালোবাসাই হাতে নিয়ে বসে আছে তার প্রিয়র জন্য।নিরু এবার আমার দিকে ঘুরে তাকাল।আমি বাড়িয়ে দিচ্ছি কাশফুল নিরুর দিকে নিরুও দুহাত বাড়িয়ে গ্রহণ করছে সাদা-শুভ্র একগুচ্ছ কাশফুল।আর আমি বলছি

এটাই শরৎ,
চারিধারে বর্ষার ক্ষত শুকানোর দাগ ,
আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ঝাঁক।
প্রণয়ীর অপেক্ষা শুভ্র কাশ হাতে,
তার স্বপ্ন এখন শুধুই নিরুপমাতে।


to be continued...............................

Post a Comment

Previous Post Next Post